 আলাউদ্দিন রনি মাধবপুর (হবিগঞ্জ):
হবিগঞ্জের মাধবপুর ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের ওপর ঘটা করে স্থাপিত ওভারলোড নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্রটি নিয়ন্ত্রণহীন হয়ে পড়েছে। দায়িত্বপ্রাপ্ত লোকদের সমন্বয়হীনতা, কর্তব্য কাজে অবহেলা ও লোকবলের সঙ্কটের কারণে এ কেন্দ্রটি অকার্যকর হয়ে পড়েছে। একশ্রেণীর অসাধু লোকের অবৈধ আয়ের উেস পরিণত হয়েছে। এ সুযোগে দায়িত্বপ্রাপ্ত লোকজন ভারি যানবাহন ওজন নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্রের পোটেবল ব্রিজে না এনে জগদীশপুর মুক্তিযোদ্ধা গোলচত্বর দিয়ে ডানদিকে গাড়ি পার করিয়ে দেয়। জাফলং ও সিলেট থেকে পাথর বোঝাই ট্রাকগুলো বিকাল বেলায় গন্তব্য পথে যাত্রা করে সন্ধ্যায় এসে গোলচত্বর এলাকায় জড়ো হয়। এরপর ওজনযন্ত্রের এটিটি অপারেটর, সড়ক ও জনপথ এবং হাইওয়ে পুলিশ বিভাগের কতিপয় অসত্ লোক দাঁড়িয়ে ট্রাকচালকদের সঙ্গে রফাদফা করে যাত্রীবাহী কোচের গা-ঘেঁষে অনায়াসে ভারি মালবাহী ট্রাকগুলো পার করে দেয়। বিকাল থেকে সন্ধ্যা অবধি ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের ওপর শত শত ভারি পাথর বোঝাই ট্রাক রাস্তায় দাঁড়িয়ে থাকা দেখা গেলেও সকালে কোনো গাড়ি দেখা যায় না।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি কোম্পানির লোকজন এবং সড়ক ও জনপথ বিভাগের লোকজনের মধ্যে টাকার ভাগবাটোয়ারা নিয়ে হাতাহাতি ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনার জের ধরে সড়ক ও জনপথের এক রোলার সহকারীকে তাত্ক্ষণিক এ দায়িত্ব থেকে প্রত্যাহার করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, ভৈরব সেতুকে ক্ষতির হাত থেকে বাঁচাতে যোগাযোগমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের গত ২ জানুয়ারি জগদীশপুর-বেজুড়া এলাকায় হঠাত্ করে ওভারলোড নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্রটি স্থাপন করলে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে ট্রাকচালকদের মধ্যে আতঙ্ক দেখা দেয়। এই নিয়ে ২-৩ দিন হইচই পড়ে যায়। জেলা প্রশাসকের তত্ত্বাবধানে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার তদারকিতে কঠোর কড়াকড়ি আরোপ করলে রাস্তায় শত শত ভারি মালবাহী ট্রাক আটকা পড়ে। এ কারণে এর প্রভাব পড়ে যাত্রীবাহী বাসগুলোয়। ভোগান্তিতে পড়েন সাধারণ যাত্রীরা। ভোগান্তি এড়াতে ওজন নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্রটি স্থানান্তর করা হয় জগদীশপুর মুক্তিযোদ্ধা গোলচত্বর এলাকায়। কিন্তু এখানে এ কেন্দ্রটি স্থাপনের পর দেখা যায় ভিন্ন চিত্র। সেই আগের স্বাভাবিক পরিবেশ। নেই কোনো গাড়ির যানজট। চালকদের মধ্যে নেই আতঙ্ক। ভারি পাথর বোঝাই ট্রাক চলাচলের কারণে ভৈরব সেতুসহ সব সেতু এখন আরও ক্ষতির মধ্যে পড়েছে। স্থানীয় কর্তব্যরত লোকজন অসহায়ত্ব প্রকাশ করে জানান, রাতের বেলায় ভারি মালবোঝাই ট্রাকের চালকরা শক্তি প্রদর্শন করে জোরপূর্বক গাড়ি চালিয়ে চলে যায়। গাড়ি ধরার জন্য তাদের কাছে নেই কোনো যানবাহন, নেই লোকবল। এছাড়া ওভারলোড ট্রাকগুলো আটক করা হলেও জরিমানা আদায় করার কোনো ক্ষমতা না থাকায় তারা জরিমানা আদায় করতে পারছেন না। তাদের দাবি ভ্রাম্যমাণ ম্যাজিস্ট্রেট সার্বক্ষণিক থাকলে কাজের গতি বেড়ে যেত। এ ব্যাপারে সড়ক ও জনপথের নির্বাহী প্রকৌশলীজাহাঙ্গীর আলম জানান, পুলিশ বিভাগের ঠিকমত সহযোগিতা পাওয়া যাচ্ছে না। এছাড়া গোলচত্বরের উত্তর দিক দিয়ে ট্রাকগুলো চলে যাচ্ছে।
(Source: Amar Desh) (Link:http://www.amardeshonline.com/pages/details/2013/02/02/185966#.UQ3xtPLnGqA )
|