ফরিদুল মোস্তফা খান, কক্সবাজার : নানা শঙ্কা ও প্রতিকূলতার মধ্যেও কক্সবাজারে এখন পুরোদমে চলছে লবণ উৎপাদন। তবে এবার তীব্র শীত ও কুয়াশার কারণে উৎপাদনে কিছুটা বিঘ্ন সৃষ্টি হচ্ছে বলে জানিয়েছেন চাষিরা।
বিসিক কক্সবাজার লবণ শিল্প উন্নয়ন প্রকল্পের বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মো. ওয়ালী উল্লাহ বলেন, ১ ডিসেম্বর চলতি মৌসুমে উৎপাদন শুরুর পর থেকে গত ৬ জানুয়ারি পর্যন্ত গত ৩৭ দিনে ২৯ হাজার ২৭ একর জমিতে ৪৩ হাজার ৪৯৬ মেট্রিক টন লবণ উৎপাদন হয়েছে।
সোমবার সদর উপজেলার খুরুস্কুল এলাকায় গিয়ে দেখা গেছে, কয়েকশ শ্রমিক মাঠে সমুদ্রের লোনা পানি ঢোকাচ্ছেন। অনেকে মাঠে পলিথিন বিছিয়ে দিচ্ছেন। কেউ আবার নতুন করে লবণ উৎপাদনের মাঠ তৈরি করছেন। এ সময় কথা হয় কয়েকজন লবণচাষির সাথে।
স্থানীয় চাষি হাফিজুর রহমান বলেন, সকালে ঢোকানো লোনা পানি সূর্যতাপে শুকিয়ে বিকেলে সাদা লবণে পরিণত হয়। পরে এসব লবণ কুড়িয়ে গুদামে মজুদ করা হয়। মাঠ তৈরি, পলিথিন ক্রয় ও শ্রমিকের মজুরি ছাড়া লবণ উৎপাদনে আর কোনো খরচ নেই। একই অবস্থা দেখা গেছে পার্শ্ববর্তী এলাকাগুলোতেও। চাষিরা জানান, গতকাল সোমবার কক্সবাজারে মাঠপর্যায়ে লবণ বিক্রি হয়েছে কালো লবণ প্রতি মণ ১৪৫-১৫০ টাকা, সাদা লবণ ২৫৩-২৬০ এবং মাঠওয়াশ ২৫০ টাকা করে। বাংলাদেশ লবণচাষি কল্যাণ সমিতির সভাপতি মুস্তাফা কামাল বলেন, বর্তমানে কৃষকপর্যায়ে প্রতি কেজি লবণ বিক্রি হচ্ছে সর্বোচ্চ ৫ টাকা করে। অথচ সেই লবণ বাজারে বিক্রি হচ্ছে ৩০ টাকায়। অটো মিলারদের কারণে লবণ ৫ গুণেরও বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।
কক্সবাজার লবণচাষি সংগ্রাম পরিষদের সভাপতি আনোয়ার পাশা চৌধুরী বলেন, চলতি মৌসুমের ১ ডিসেম্বর থেকে জেলার টেকনাফ, সদর, মহেশখালী, কুতুবদিয়া, পেকুয়া ও চকরিয়া উপজেলার অন্তত ৫০ হাজার একর জমিতে লবণ উৎপাদিত হচ্ছে। আরও অন্তত ২০ হাজার একরের জমি উৎপাদনের জন্য প্রস্তুত করা হচ্ছে। কিন্তু লবণের দাম কমে যাওয়ায় প্রায় ৫০ হাজার চাষির লোকসান গুনতে হচ্ছে।
বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প সংস্থার (বিসিক) কক্সবাজারস্থ লবণ প্রকল্প অফিস জানায়, চলতি লবণ উৎপাদন মৌসুমে (নভেম্বর-মে) কক্সবাজার জেলার চকরিয়া, পেকুয়া, কুতুবদিয়া, মহেশখালী, কক্সবাজার সদর, টেকনাফ ও চট্টগ্রাম জেলার বাঁশখালী উপজেলার উপকূলীয় এলাকার ৭০ হাজার একর জমি চিহ্নিত করা হয়েছে। এসব জমিতে উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে পরিশোধিত আকারে ১৫ লাখ ২০ হাজার মেট্রিক টন লবণ। আর দেশে খাবার ও শিল্পে ব্যবহার্য লবণের বার্ষিক চাহিদা রয়েছে ১৫ লাখ ৬ হাজার মেট্রিক টন।
(Source: Amader Shomoy) (Link:http://www.amadershomoy2.com/content/2013/01/10/news0795.htm)
|