রাউজান ইউপি নির্বাচন--আর মাত্র একদিন বাকী শেষ মুহূর্তের প্রচারণা : আচরণবিধির ব্যাপক লংঘন Jun 16, 2011
জেলার বহুল আলোচিত রাউজান উপজেলার ইউপি নির্বাচনের আর মাত্র ১দিন বাকি। ১৮ জুন প্রশাসনের পক্ষ থেকে 'স্পর্শকাতর' হিসেবে চিহ্নিত রাউজানের নির্বাচন। উপজেলার ১৪টি ইউনিয়নে নির্বাচনের আগেই বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন দুই চেয়ারম্যান পশ্চিম গুজরা ইউনিয়নের সাহাবুদ্দিন আরিফ ও চিকদাইর ইউনিয়নের কাজী দিদারুল আলম। এই ইউনিয়ন গুলোতে অপর প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র বাতিল ও প্রত্যাহার করে নেয়ার সুযোগে এই দু'জন প্রার্থী নির্বাচিত হয়েছে। ১২টি ইউনিয়নে চেয়ারম্যান প্রার্থীর সংখ্যা মোট ৬৫জন। আর ১৪ ইউনিয়নে সংরক্ষিত ১১৮ ও সাধারণ মেম্বার পদে প্রার্থী রয়েছেন ৫২৮। এদিকে ১৪ ইউনিয়নের প্রায় প্রত্যকটি এলাকা ঘুরে দেখা গেছে এবং অভিযোগে জানা গেছে প্রত্যকটি নির্বাচনী এলাকায় আচরনবিধি লংঘন করছে প্রার্থী ও তাদের সমর্থকরা। কয়েকদিন আগে জেলা প্রশাসক ফয়েজ আহম্মদ নিজে রাউজানে এসে কদলপুর ও পাহাড়তলী ইউপির দু' চেয়ারম্যান ও এক মেম্বার প্রার্থীকে দুটি মাইক দিযে প্রচারণা করায় জরিমানা করেছেন। তিনি সমন্বয় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখতে গিয়েও রাউজানে আচরণবিধি নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তিনি এব্যাপারে উপজেলা নির্বাচন অফিসার অঞ্জন চন্দ্র পালকে দ্রুত ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশ দেন। এদিকে এলাকা ঘুরে দেখা যায় পূর্ব গুজরা, গহিরা, বাগোয়ান, রাউজান, নোযাজিশপুর, পাহাড়তলী, কদলপুর, পশ্চিম গুজরা, হলদিয়ায় ব্যাপক হারে আচরণবিধি লংঘন করা হচ্ছে। দেয়ালে, বাড়িতে পোস্টার সাটাই করে, একটির পরিবর্তে দুটি মাইক দিয়ে, বড় আয়োজন করে সমর্থক আর ভোটারদের খাবার খাওয়ানো হচ্ছে। গত রবিবার পাহাড়তলী ইউপির এক চেয়ারম্যান প্রার্থী ও এক মেম্বার প্রার্থী তাপ বিদু্যৎ কেন্দ্রে ৫শ মানুষকে খাবার খাবান বলে অভিযোগ করেন ওই ইউনিয়নের চেযারম্যান প্রার্থী নুরুল আলম। এদিকে ডাবুয়ায় বর্তমান চেয়ারম্যান প্রার্থী আবদুর রহমান চৌধুরীকে মঙ্গলবার হামলা করে প্রচারণায় বাঁধা দেয় আওয়ামীলীগ সমর্থিত প্রার্থী আলমগীরের কর্মিরা। পূর্ব গুজরায় সন্ত্রাসীদের গডফাদার জসিম প্রকাশ মোটকা জসিম এক প্রার্থীর পক্ষে অস্ত্র সজ্জিত হয়ে এলাকায় ঘুরে হুমকি দিচ্ছে ভোটারদের। বিনাজুরীর চেয়ারম্যান প্রার্থী আবুল কাসেম সন্ত্রাসী ও থানার দালাল হিসাবে পরিচিত। সে এখন নির্বাচনে প্রভাব বিস্তার করছে তার কিছু লোক দিয়ে। একই ইউনিয়নের অপর চেয়ারম্যান প্রার্থী রবীন্দ্র লাল চৌধুরী রবি বিরুদ্ধে সার পাচার মামলায় গ্রেপ্তারি পারোয়ানা থাকলেও এখনো পর্যন্ত তারবিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা না নেয়া জনমনে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। এ চেয়ারম্যান প্রার্থী প্রকাশ্য ঘুরে নির্বাচনী কর্মকান্ড পরিচালনা নিয়েও উঠেছে প্রশ্ন। তার বিরুদ্ধে সন্ত্রাসী ও মাস্তান নিয়ে নির্বাচনী প্রচার চালানোর অভিয়োগ রয়েছে। এ ব্যাপারে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকতা বলেন, বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে। ব্যবস্থা নেয়া হবে। কদলপুর ইউপির চেয়ারম্যান প্রার্থী সাইফুল হক চৌধুরী অভিযোগ করেন তার প্রতিদ্বন্ধি এক চেয়ারম্যান প্রার্থীর পক্ষে প্রচারণা চালানোর সময় উন্নয়নের আশ্বাস, নগদ টাকা, খেলাধূলা সামগ্রী প্রদান করে আচারণবিধি লংঘন করছেন। এদিকে অনেক প্রার্থী তাদের প্রতিদ্বন্ধি প্রার্থীর বিরুদ্ধে নির্বাচনের দিন ভোট কেন্দ্র দখল, সন্ত্রাস ও ভোটারদের বাধা প্রদানের আশংকা করেছেন। এব্যাপারে জেলা প্রশাসক ফয়েজ আহম্মদ বলেন, জেলার মধ্যে রাউজানের নির্বাচন নিয়ে আমরা সবচাইতে বেশি অভিযোগ পেয়েছি, কাজেই আমরা এই এলাকাকে সর্বোচ্চ বিশৃংখলাকারী এলাকা হিসেবে চিহ্নিত করেছি। জেলা পুলিশ সুপার জেড এ মোরশেদ বলেন, সন্ত্রাসীরা নির্বাচনে সুযোগ করতে পারবেনা। কারণ পুলিশ লম্পজম্ফকে পুলিশ ভয় পায়না। কেউ প্রকাশ্যে কোন অন্যায় করতে চাইলে তাদের বিরুদ্ধে পুলিশ সাথে সাথে ব্যবস্থা নেবে। উপজেলার ১২টি ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদের যারা শেষ ভোট যুদ্ধে অবতীর্ণ হচ্ছেন তারা হচ্ছেন- হলদিয়ায় চেয়ারম্যান প্রার্থী আবদুল মোমেন চৌধুরী (আনারস), শফিকুল ইসলাম চৌধুরী (গরু গাড়ী),সাইফুল ইসলাম (দোয়াতকলম), মাহাবুল আলম (দেয়াল ঘড়ি), মোসলেহ উদ্দিন (জাহাজ), দিদারুল আলম (টেলিফোন), আবু তাহের (তালা)। এখানে সংরক্ষিত মহিলা আসনে ৮জন ও সাধারণ সদস্য পদে ৩৫ জন। ডাবুয়ায় চেয়ারম্যান প্রার্থী ৩ জন। তাদের মধ্যে আবদুর রহমান চৌধুরী (জাহাজ), মো. আলমগীর (আনারস), হারুন চৌধুরী (তালা)। এখানে সংরক্ষিত মহিলা আসনে ৬ জন। সাধারণ সদস্য পদে ৩৮ জন।চিকদাইয়ে চেয়ারম্যান প্রার্থী কাজী দিদারুল আলম বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত। এখানে সাধারণ সদস্য আসনে ৩৭, সংরক্ষিত মহিলা আসনে ৭ জন। গহিরায় চেয়ারম্যান প্রার্থী পাচঁ জন। তাদের মধ্যে নাজিম উদ্দিন তালুকদার (জাহাজ), নুরুল আবসার (আনারস), মোহাম্মদ মুছা খান (দোয়াত কলম), নুরুল বক্তেয়ার (টেলিফোন), হারুন উর রশিদ (তালা)। এখানে সংরক্ষিত মহিলা আসনে ৭ ও সাধারণ সদস্য পদে ২৭ জন প্রার্থী রয়েছে। নোয়াজিশপুরে চেয়ারম্যান প্রার্থী ৪ জন। তাদের মধ্যে সরোয়ারদী সিকদার (আনারস). রাশেদুল আলম চৌধুরী (দেয়াল ঘড়ি) , কামাল উদ্দিন (জাহাজ), মো. ইসলাম (দোয়াতকলম)। এখানে সাধারণ সদস্য ৩২ ও সংরক্ষিত মহিলা আসনে ৭ জন। রাউজানে চেয়ারম্যান প্রার্থী ৩ জন। তাদের মধ্যে শাহ আলম চৌধুরী (আনারস),দিদারুল আলম (জাহাজ), ফয়জুল ইসলাম চৌধুরী (দেয়াল ঘড়ি) । সংরক্ষিত আসনে ১০জন ও সাধারণ সদস্য পদে ৩৬ জন। কদলপুরে চেয়ারম্যান প্রার্থী৭ জন। তাদের মধ্যে, সাইফুল হক চৌধুরী (দোয়াতকলম), মোজাহেদুল ইসলাম চৌধুরী (আনারস) এস.এম ইব্রাহিম খোকন (দেয়াল ঘড়ি), মুরাদুল আলম (চশমা), আলম হুদা চৌধুরী (তালা), ফরিদ হোসেন (জাহাজ), ফরহাদ উদ্দিন চৌধুরী (টেলিফোন) । সংরক্ষিত মহিলা আসনে ৯ জন। সাধারণ আসনে ৪৩ জন প্রার্থী। বিনাজুরীতে চেয়ারম্যান প্রার্থী ৭ জন। তাদের মধ্যে সুকুমার বড়ুয়া (দেয়াল ঘড়ি), রবিন্দ্র লাল চৌধুরী (জাহাজ), মীর্জা আলমগীর (তালা), রাশেদ চৌধুরী (টেলিফোন), বিজয় বড়ুয়া (দোয়াত কলম), কমলেন্দু শীল (গরুর গাড়ী), আবুল কাসেম (আনারস)। সংরক্ষিত মহিলা আসনে ৯ জন। সাধারণ সদস্য পদে ৩৯ জন। পশ্চিম গুজরায় নির্বাচন হবে সাধারণ সদস্য পদে ৩৬ ও সংরক্ষিত আসনে ১১ জনের মধ্যে। পূর্ব গুজরায় চেয়ারম্যান প্রার্থী ৭ জন। তাদের মধ্যে এম. আব্বাস উদ্দিন আহমেদ (আনারস), মো. হোসেন মাহমুদ (দোয়াত কলম), সৈয়দ রফিক আহমদ (জাহাজ), শফিউল আলম (দেয়াল ঘড়ি), রহুল আমিন (টেলিফোন), নুরুল ইসলাম বাবুল (গরু গাড়ি), বকুল বড়ুয়া (মাইক)। সংরক্ষিত মহিলা আসনে ৮ ও সাধারণ আসনে ৩৩ জন। পাহাড়তলীতে চেয়ারম্যান প্রার্থী ৫ জন। তাদের মধ্যে মো. ইব্রাহিম (আনারস), আবদুর রাজ্জাক (গরু গাড়ি), নুরুল আলম (তালা), আবদুল মান্নান (দেয়াল ঘড়ি), কামাল উদ্দিন (জাহাজ)। সংরক্ষিত আসনে ১০জন। সাধারণ আসনে ৫০জন প্রার্থী। বাগোয়ানে চেয়ারম্যান প্রার্থী৬ জন। তাদের মধ্যে ভূপেষ বড়ুয়া (আনারস), কাজী আবুল বশর (দোয়াত কলম), রেজাউল করিম (গরু গাড়ি), মো. ইয়াছিন (দেয়াল ঘড়ি), নুরুল আমিন চৌধুরী (টেলিফোন), আবদুল আজিজ (জাহাজ)। সংরক্ষিত আসনে ৮ জন।সাধারণ সদস্য পদে ৪৪ জন প্রার্থী। নোয়াপাড়ায় চেয়ারম্যান প্রার্থী পাচঁ জন। তাদের মধ্যে দিদারুল আলম (আনারস), জানে আলম (জাহাজ), নুর আহামদ (দেয়াল ঘড়ি), সেলিম জাবেদ রানা (দোয়াতকলম), মো. মুছা (তালা)। এখানে সংরক্ষিত মহিলা আসনে ৯ জন। সাধারণ আসনে ৪৩ জন। উরকিরচরে চেয়ারম্যান প্রার্থী ৬ জন। তাদের মধ্যে শেখ সিরাজুল ইসলাম (আনারস), আনোয়ার চৌধুরী (দেয়াল ঘড়ি), আবদুল মজিদ (জাহাজ), আবদুল মান্নান(দোয়াত কলম), তাজুল ইসলাম চৌধুরী (গরু গাড়ি), আনোরার আজম (টেলিফোন)। সংরক্ষিত মহিলা আসনে ১০জন। সাধারণ আসনে ৩৬ প্রার্থী।