বীরেন্দ্র কিশোর সরকার, বরগুনা : অবৈধ দখল আর পলি পড়ার কারণে মরা খালে পরিণত হয়েছে বরগুনা শহর সংলগ্ন ভাড়ানি খালটি। পানি দূষিত হয়ে যাওয়ায় কোনো কাজেই তা লাগছে না পৌরবাসীর। অন্যদিকে সাগর থেকে উঠে আসা পলিতে ভরাট হয়ে যাওয়ায় ব্যাহত হচ্ছে নৌ-যোগাযোগ এবং সেচব্যবস্থা। বরগুনা জেলা শহরের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়ে ১০ কিলোমিটার দক্ষিণে পায়রা নদীতে গিয়ে মিশেছে এ খালটি। এটিই বিষখালী ও পায়রার (বুড়িশ্বর) মধ্যে সংযোগ রক্ষাকারী একমাত্র খাল। এটি দিয়ে একসময় যাত্রীবাহী ছোট লঞ্চ, পণ্যবাহী ছোট বড় নৌকা চলাচল করত। বরগুনা জেলা শহর থেকে নৌপথে আমতলী ও তালতলী উপজেলা শহরে স্বল্প সময়ে পৌঁছার জন্য এ ভাড়ানি খালটির কোনো বিকল্প খাল নেই। কিন্তু খালের দুপাড়ে অবৈধ স্থাপনা গড়ে ওঠায় এটি ধীরে ধীরে সংকীর্ণ হয়ে গেছে। পলি পড়ে ভড়াট হয়ে গেছে এর তলদেশ। ফলে বর্ষা মৌসুমে কোনোমতে নৌযান চলাচল করতে পারলেও শুকনো মৌসুমে একেবারেই চলাচল করতে পারে না। বর্তমানে শুকনো মৌসুমে খালটি শুকিয়ে থাকায় বরগুনার সাথে যোগাযোগ ব্যাহত হচ্ছে দক্ষিণাঞ্চলের আমতলী, তালতলী, বালিয়াতলী, জয়ালভাঙ্গা, লতাকাটা, আড়পাঙ্গাশিয়া, বগী, চালিতাতলী, উরবুনিয়া, ছোনবুনিয়া, পঁচাকোড়ালিয়াসহ বিভিন্ন এলাকার।
ধান, চাল, সুপারি, মরিচ, ডালসহ তরিতরকারি নৌকাযোগে বরগুনা শহরে বিক্রির জন্য নিয়ে আসতে পারছে না কৃষকরা। আবার বরগুনা থেকে সিমেন্ট, বালু, টিন, কাঠ, মুদি ও মনোহরি মালামাল, বাঁশ-বেঁতের তৈরি সাজি, ডোলা প্রভৃতি নৌকা ও ট্রলারযোগে নিয়ে যেতে পারছে না ব্যবসায়ীরা। সরেজমিন দেখা গেছে বরগুনা জিলা স্কুল থেকে মাছ বাজার পর্যন্ত প্রায় এক কিলোমিটার খালটির দুপাশেই অবৈধ দোকানপাট উঠিয়ে দখল করে রাখা হয়েছে।
অবৈধ দখল সম্পর্কে সহকারী কমিশনার (ভূমি) তরফদার সোহেল রহমান জানান, কয়েকবার অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদ করা হয়েছে, কিন্তু তারা আবার পুনরায় সে জায়গা দখল করে নিয়েছে। এ ব্যাপারে পৌর মেয়র জানান, ভাড়ানি খালসহ পৌরসভার বিভিন্ন লেক সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
(Source: Amader Shomoy) (Link:http://www.amadershomoy2.com/content/2013/01/14/news0613.htm)
|