নানা সমস্যা ও প্রতিকূলতার কারণে শরীয়তপুর জেলার খেজুরগুড় শিল্প বিলীন হতে চলেছে। নির্বিচারে খেজুর গাছ নিধন করে ইটভাটার জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার, নতুন করে খেজুর গাছ রোপণ না করা, খেজুর বাগানে ক্ষতিকর বিদেশি গাছ রোপণ এবং খেজুরগুড়ের চেয়ে চিনি ও আখের গুড়ের মূল্য কম থাকায় ঐতিহ্যবাহী এ খেজুর গুড় শিল্প হারিয়ে যেতে বসেছে। এ জেলার একটি প্রচলিত প্রবাদ আছে, ‘সুরেশ্বরী ডাঁটা, পদ্মার ইলিশ আর খেজুরের গুড়—এই তিন নিয়ে গর্বিত ছিল শরীয়তপুর।’ কালের বিবর্তনে ও প্রকৃতির বৈরী আচরণের কারণে পদ্মার ইলিশের মতোই শরীয়তপুর জেলার সুখ্যাতি হারিয়ে যেতে বসেছে।
শীতের পিঠা-পায়েস তৈরি ও অতিথি আপ্যায়নের জন্য খেজুরগুড় ছিল অপরিহার্য উপাদান। কিন্তু অবাধে খেজুর গাছ নিধন আর নতুন করে খেজুরের চারা রোপণ না করায় এখন খেজুর গুড় শিল্পটি হারিয়ে গেছে। এ খেজুর গুড় উত্পাদন ও বিপণনের সঙ্গে বিভিন্ন পেশার কয়েকটি সম্প্রদায় সম্পৃক্ত ছিল, যার মধ্যে রয়েছে গাছি, কুমার, কামার, বাঁশশিল্পী, আড়তদার, পাইকার ও পরিবহনকারী শ্রেণী। এরা সবাই আজ পেশা পরিবর্তন করে অন্য পেশায় নিয়োজিত হলেও তেমন একটা সুবিধা করতে পারছে না। এদের মধ্যে সবচেয়ে দুর্দিন পার করছে খেজুর গুড় উত্পাদনের সঙ্গে জড়িত গাছিরা। ভেদরগঞ্জ উপজেলার মির্জাপুর গ্রামের ষাটোর্ধ্ব গাছি আবদুল মান্নান বলেন, আজ থেকে পাঁচ-ছয় বছর আগেও আমাদের গ্রামে শত শত খেজুরগাছ ছিল। আমি প্রতিদিনই পালা করে দুই শতাধিক খেজুরগাছের রস আহরণ করতাম। প্রতিদিন আমার দুই থেকে আড়াই মণ গুড় উত্পাদন হতো, যা বিক্রি করে আমার সংসার স্বচ্ছন্দে চলত। আজ তা শুধুই স্মৃতি। ইটভাটার জ্বালানির জন্য নির্বিচারে খেজুরগাছ কেটে বিক্রি করে দেয়ায় এখন আর সারা গ্রাম খুঁজেও ২০-৩০টির বেশি খেজুরগাছ মেলানো যাচ্ছে না। ফলে বাধ্য হয়েই এই পেশা ছেড়ে দিয়েছি। শরীয়তপুর জেলা কৃষি বিভাগ মনে করে, জেলার ঐতিহ্যবাহী খেজুরগুড়ের উত্পাদন বাড়ানোর জন্য জেলাবাসীর একটু আন্তরিকতাই যথেষ্ট। কারণ অবাধে খেজুরগাছ কর্তন বন্ধের পাশাপাশি নদী-খাল, পুকুরপাড় ও সড়কের দু’ধারে নতুন করে খেজুরগাছের চারা রোপণ করা হলেই এ জেলার জলবায়ু ও আবহাওয়ায় খেজুরগাছ বিনা পরিশ্রমে দ্রুত বেড়ে ওঠে। আরেকটি খেজুরগাছ থেকে তিন থেকে চার বছরের মধ্যেই রস সংগ্রহ করা যায়।
(Source: Amar Desh)
(Link: http://www.amardeshonline.com/pages/details/2013/01/15/182911#.UPTx26znGqA)
|