 আমড়ার জন্য বরিশাল বিখ্যাত। যা শিশুথেকে বয়স্ক সকল মানুষের প্রিয় ফল। দামে সস্তা হলেও ফলটি পুষ্টি গুনে খুবই সমৃদ্ধ। আমরা ফলের ইতিহাস ঘাটলে দেখা যাবে এর উৎপত্তিস্থল বাংলাদেশের দক্ষিনাঞ্চল। অর্থৎ বৃহত্তর বরিশালের ব্যাবসায়ীক মোকাম এককালের দ্বিতীয় কোলকাতা খ্যাত ঝালকাঠি জেলায়। পুষ্টিমান, সস্তা ও সহজলভ্য জন্যই বরিশালের ঝালকাঠি জেলার আমড়ার জন্য বিখ্যাত। অধিক পরিমানে ভিটামিন সি সমৃদ্ধ এই সুসাদু ফলের স্বাদে মোহিত হয়ে প্রশাংসায় করেছেন সাবেক রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, জ্ঞানী-গুনী থেকে বিদেশীরা। আর মওসুম এ ফলটির কদর এখন ঝালকাঠি জেলা থেকে ছড়িয়ে পড়েছে দেশ-বিদেশে, আয় হচ্ছে বৈদেশিক মূদ্রা।
সংশিষ্ট সূত্র মতে, বাংলাদেশে উৎপাদিত আমড়ার সর্বাধিক উৎপাদন হয় ঝালকাঠিতে। সম্প্রতি ঘটে যাওয়া প্রলয়ঙ্করি প্রাকৃতিক দূর্যোগ ‘সিডর’ ও আইলার কারনে অনেক বৃক্ষের সাথে আমড়া গাছের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। আমড়া ফলের গাছ তুলনামূলক কম শক্তিশালী হওয়ায় সহজে ভেঙ্গে যায়। ‘আইলা’ পরবর্তি সরকার কর্তৃক ফলজ গাছের চারা রোপন না করায় অর্থকারী এ ফলজ গাছ কমে যাওয়ায় আমড়ার ফলনও তুলনা মূলক কমে গেছে। আমড়ার আড়ৎদ্দার মোঃ দুলাল ব্যাপারি জানান- এ বছরের আমড়ার ফলন ভাল হওয়ায় আমড়া গাছের মালিকরা ভালো মুনাফা লাভ করছে। ঝালকাঠির আমড়া জেলার চাহিদা মিটিয়ে ঢাকায় এমনকি বিশেষ প্রক্রিয়ায় বিদেশেও রপ্তানি করা হচ্ছে। পারিবারিক আয় বর্ধন এবং পুষ্টি সমৃদ্ধির প্রয়জনে ব্যাক্তি উদ্দোগের পাশাপশি সরকারী পৃষ্ঠপোষকতায় পতিত জমিতে বেশি বেশি আমড়া গাছ লাগালে অরো বেশি পুষ্টি সহায়ক এবং বৈদেশিক মুদ্রা আর্জন সম্ভব বলে মতব্যক্ত করেছে কৃষি বিভাগের কয়েকজন ফিল্ড সুপারভাইজার।
স্বাস্থ্য বিভাগের একটি সূত্র জানায়, আমড়ায় রয়েছে পর্যাপ্ত পরিমান ভিটামিন সি,এ, ক্যালসিয়াম, ফসফরাস সহ আনেক পুষ্টি মান উপাদান। আমড়াতে আঁশ থাকার কারনে হজমের কাজে সহয়তা করে । তাই মওসুমের সময় নিয়মিত আমড়া খেলে কোষ্ঠ কাঠিন্য রোগ দুর হয়। আমড়া কাঁচা, সরষে মাখা, রান্নাকরে, মোরব্বা করে খাওয়া যায়। এছারা আঁচার চাটনি, পুস্প মঞ্জুরি দিয়েও খাট্টাকরে খাওয়া যায়। সব মিলে আমড়া পুষ্টি মানে সমৃদ্ধ একটি চমৎকার ফল।
Source: www.jhalakathiweb.com
|