জমিদার বাড়ির ইট কাঠ আর মাটি পুকুরের জন্য দেশে ফিরে আসিনি। আপনাদের ভালবাসার জন্য ফিরে আসি….. ড. তপন রায় চৌধুরী
কির্ত্তীপাশা এলাকার নিম্মবর্নের হিন্দুরা এখনো জমিদার বাড়িতে প্রবেশের আগে মাথা নীচু করে মাটিতে প্রনাম করার রেওয়াজ অব্যাহত রেখেছে। সেই ঐতিহাসিক জমিদার বাড়ির দৌহিত্র ভারতের অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সহপাঠি, বিশিষ্ট ইতিহাসবিদ ড. তপন রায় চৌধুরী স্বপরিবারে নিজভূমে সংবর্ধিত হলেন। তিনি বাংলাদেশে রাষ্ট্রীয় সফরে এসে বৃহস্পতিবার সকালে ঝালকাঠি কির্ত্তীপাশা জমিদার বাড়িতে আসেন। রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা আর সেই পুরনো দিনের ঢাকডোলের তালে তাকে প্রবেশ করানো হয় স্মৃতি বিজরিত পৈত্রিক বাড়িতে। স্ত্রী, কন্যা নাতনীসহ তিনি সংবর্ধনা মঞ্চে প্রবেশের পর তিনি আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। দীর্ঘ বছর পর তিনি এলাকার মানুষের সাথে মিলিত হলে তারা তাদেরকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানান। ঝালকাঠি জেলা প্রশাসক অশোক কুমার বিশ্বাসের সভাপতিত্বে সকাল সাড়ে ১১ টায় অনুষ্ঠিত সংবর্ধনা সভায় কোরআন তেলাওয়াত ও গীতাপাঠ শেষে উপস্থিত লোকজন তাদের বক্তব্যে নানা অনুভূতি প্রকাশ করে। স্বাগত বক্তব্য রাখেন কমলীকান্দর নবীন চন্দ্র বালিকা মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সুনীল বরন হালদার। অনান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন জেলা আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক আলহাজ্জ এ্যাডভোকেট খান সাইফুল্লাহ পনির, সাংগঠনিক সম্পাদক আলহাজ্জ সুলতান হোসেন খান, ইউপি চেয়ারম্যান শুক্কুর মোল্লাসহ স্থানীয় বিভিন্ন শ্রেনী পেশার মানুষ তাদের অনুভূতি ব্যক্ত করেন। এলাকার সন্তান ও ষ্টেপস টুয়ার্ডস ডেভেলপমেন্ট’র নির্বাহী পরিচালক রঞ্জন কর্মকারের উপস্থাপনায় অনুষ্ঠিত সংবর্ধনা শেষে ড. তপন চৌধুরী তার প্রতিক্রিয়ায় বলেন, বাংলাদেশ হিন্দু-মুসলমানের এক সম্প্রীতির দেশ। এদেশে আমার রাজনৈতিক কোন প্রভাব নেই। বয়সের ভারে ভারাক্রান্ত অবস্থায় এদেশের মানুষের শ্রদ্ধা আর ভাল বাসা আমাকে চিরদিন স্মরন করিয়ে দিবে। তিনি তার পৈত্রিক স্মৃতি রক্ষার স্বার্থে প্রতিবছর এলাকার বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের রচনা প্রতিযোগীতার জন্য আর্থিক সহায়তা করবেন বলে আশ্বাস দেন। সেই সাথে এলাকাবাসি সরকারের কাছে ঐতিহাসিক জমিদার বাড়ি সংরক্ষনের দাবী জানালে তিনিও মতপোষন করেন। বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় তিনি বলেন এদেশের গনমানুষের নেতা জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান তার সহপাঠি ছিলেন। এসময় তিনি বঙ্গবন্ধুর স্মৃতিচারন করে বলেন, হোষ্টেলে থাকাকালে আমি প্রায়ই মুজিবের রুমে যেতাম। সবুজ শার্ট পরিহিত মুজিবের মাঝে সবসময়ে একটা উত্তেজনা দেখা যেত। তিনি বলেন, আমি বারবার দেশে ফিরি শুধু ইট কাঠ আর মাটি পুকুরের জন্য নয়, আপনাদের ভালবাসার জন্য। বহু পূর্বে আমাদের পূর্বপুরুষ দেশ ছেড়ে চলে গেছেন। পিতামহ প্রসন্ন কুমার সেন দীর্ঘদিন ফার্সি ভাষা চর্চ্চা করেন। তাই তিনি মৌলভী উপাধি পেয়েছিলেন। এলাকাবাসির
পক্ষে সুলতান হোসেন খান জমিদার বাড়ির ওপর নির্মিত বিদ্যালয়টির লাইব্রেরীটি ড. তপন রায় চৌধুরীর সহধর্মিনী প্রতিমা রায় চৌধুরীর নামেসহ সমস্ত সম্পত্তিতে যাদুঘর নির্মানের জন্য জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে সরকারের প্রত্নতত্ব অধিদপ্তরের সহযোগিতা কামনা করেন এলাকাবাসি। এসময় তার স্ত্রী প্রতিমা রায় চৌধুরী, মেয়ে সুকন্যা রায় চৌধুরী ও নাতনি লীলা রায় চৌধুরীও বক্তব্য রাখেন। সংবর্ধনা সভায় অনান্যের মধ্যে পুলিশ সুপার মো: সামসুদ্দিন, শিল্পপতি মো: সোহরাব হোসেন, সদর ও নলছিটি উপজেলা ভাইসচেয়ারম্যান ইসরাত জাহান সোনালী, ডালিয়া নাসরিন, এনডিসি মিজানুর রহমান, ইঞ্জিনিয়ার আ: রহিম প্রমূখ উপস্থিত ছিলেন।
আহমেদ আবু জাফর
ঝালকাঠি ব্যুরো প্রধান, দৈনিক শাহনামা।
Source:http://www.jhalakathiweb.com/?p=5794
|