 হবিগঞ্জের জগদীশপুর, তেলিয়াপাড়া ,চণ্ডীছড়া সহ বিভিন্ন চা বাগানে অবৈধ ও অবাধে বালু উত্তোলনের ফলে চা শিল্প ভয়াবহ হুমকির মুখে পড়ার আশঙ্কা করছেন পরিবেশবাদীরা। তাছাড়া পাহারধস, ভূমিকম্পসহ বড় ধরনের প্রাকৃতিক বিপর্যয়েরও আশঙ্কা করছেন বাগান কর্তৃপক্ষ ও সচেতন মহল। জানা যায়, প্রশাসনের কাছ থেকে বালুমহাল ইজারা নেওয়ার মাধ্যমে এলাকার একটি প্রভাবশালী মহল সরকারি নিয়মনীতি ও পরিবেশগত স্বার্থের প্রতি তোয়াক্কা না করে যাচ্ছেতাইভাবে সিলিকা বালু ও সিরামিক তৈরির জন্য বালু সহ সব রকমের বালু উত্তোলন চালিয়ে যাচ্ছে । এর ফলে অনেক জায়গায়ই সড়কের পাশ চারারোপণের আশপাশ ও পাহাড় টিলার বিভিন্ন অংশ ভেঙ্গে পড়েছে । ফলে শুধু বাগানের বৃক্ষরাজিনয় মারাত্মক হুমকির মুখে পড়েছে এ বিশাল এলাকার জীববৈচিত্র্য। এদিকে জেলা প্রশাসনের উন্মুক্ত টেন্ডার আহবানের বিরুদ্ধে উচ্চআদালত এ রিট করেছেন সুরমা চা বাগানের ব্যবস্থাপক । ওই ঘটনাবলির পরিপ্রেক্ষিতে পরিবেশবাদী সংগঠন হবিগঞ্জ পরিবেশ আন্দোলনের নেতারা সুরমা চা বাগান ও এর আশেপাশের এলাকা পরিদর্শন করেন। পরিবেশ আন্দোলনের আহবাহক অ্যাডভোকেট ত্রিলোক কান্তি চৌধুরী বীজন এর সঙ্গে যাওয়া বিভিন্ন ইলেকট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়ার সাংবাদিক এ সময় অবাধে পাহাড় কাটা ও নিয়ম বহির্ভূত ভাবে বালু উত্তোলনের ফলে বিপর্যস্ত পরিবেশের সার্বিক চিত্র প্রত্যক্ষ করেন। সুরমা চা বাগানের ব্যবস্থাপক নাসির উদ্দিন খান জানান , বিভিন্ন ধরনের প্রভাব খাটিয়ে জারা বালুমহল ইজারা নেন তারা ভাল-মন্দ বিচার বিবেচনা না করেই বালু উত্তোলন করে আসছেন ।ফলে চা বাগান হুমকির মুখে পড়েছে। অথচ আমরা যদি বালু উত্তোলন করি, বাগানের স্বার্থটাই আগে মাথায় রাখব। তাই প্রশাসনের উন্মুক্ত টেন্ডার এর বিরুদ্ধে রিট করেছি । হবিগঞ্জ পরিবেশ আন্দোলনের আহবাহক অ্যাডভোকেট ত্রিলোক কান্তি চৌধুরী বীজন সকালের খবর কে জানান, পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য ক্ষতিগ্রস্ত হয়, এমন বালু উত্তোলন যারাই করুক না কেন, আমরা তার বিরুদ্ধে আন্দোলন গড়ে তুলব। চা বাগান এলাকা থেকে বালু গর্ত করে উত্তলনের ফলে পাহাড় ও টিলা ধ্বস এবং ভূমিকম্পসহ প্রাকৃতিক বিপর্যয়েরও আশঙ্কা করছেন তিনি । অ্যাডভোকেট বীজন বলেন, চা শিল্প ক্ষতিগ্রস্ত হলে অনেক চা শ্রমিক ও বেকার হয়ে পড়বে ।
এদিকে অবাধে বালু উত্তোলনের ফলে জগদীশপুর চা বাগানে শ্রমিক ও আশপাশ এলাকার বাড়িঘর ভেঙ্গে পড়েছে। চা বাগানের প্রবেশ পথের ব্রিজটি সম্প্রতি ভেঙ্গে পড়ে। তা ছাড়া জগদীশপুর এলাকার কয়েক কিলোমিটার এর মধ্যে অবাধে ট্রাক্টর চলাচল, বালু উত্তোলন সহ বিভিন্ন কারনে নানা অসুবিধায় ভুগসে স্থানীয় বাসিন্দারা। এলাকার লোকজন ও বাগান শ্রমিকরা জানান, বালু উত্তোলনের নিয়ম নীতি উপেক্ষা করে প্রতিদিন কোটি কোটি টাকার বালু তুলে নেওয়া হচ্ছে । তারা বলেন, সরকারি দলের নাম ভাঙিয়ে কতিপয় স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যক্তি বালু তুলে নিয়ে যাচ্ছে । এদের ভয়ে কেউ কথা বলতে পারছেন না।
(Source: greenbengalnews)
|