 রাউজানের কলমপতি এলাকায় ২৫০ বছর আগে বিধস্ত মসজিদটির সংস্কার না করায় ওই মসজিদের মিম্বরটি কালের সাক্ষী হয়ে রয়েছে। রাউজান উপজেলার ২নং ডাবুয়া ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ডের কলমপতি এলাকায় ২৫০ বছর আগে মসজিদটি বিধ্বস্ত হওয়ার পর ভাঙা মসজিদ নামে এলাকার মানুষের কাছে পরিচিতি লাভ করে। প্রতিদিন বিধ্বস্ত মসজিদের মিম্বরের জরাজীর্ণ দেয়ালে বিভিন্ন এলাকা থেকে লোক এসে চুন লেপে দিয়ে ও মোমবাতি জ্বালিয়ে তাদের মনোবাসনা পূর্ণ করার জন্য আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করেন। ২৫০ বছর আগে বিধ্বস্ত মসজিদটি নিয়ে এলাকায় প্রবাদ রয়েছে যে, আশকর আলী চৌধুরীর ছেলে ইউছুফ চৌধুরী কলমপতি এলাকায় বাড়ি নির্মাণ করেন ও বাড়ির সামনে এবং পেছনে দুটি পুকুর খনন করেন। সামনের পুকুরের দক্ষিণ পাশে বার্মা থেকে নদীপথে ইট এনে কাগতিয়া খাল দিয়ে রাউজানের ছাদেকের পুলে এনে সেখান থেকে গরুর গাড়িতে করে ইট কলমপতি এলাকায় নিয়ে এসে চুন ও সুরকি দিয়ে মসজিদটি নির্মাণ করেন। জনশ্রুতি আছে প্রতিষ্ঠাতা ইউছুফ চৌধুরী এলাকাবাসীর নামাজ পড়ার জন্য মসজিদ নির্মাণ করে নিজে নামাজ পড়ে মায়ের দুধের ঋণ পরিশোধ করেছি_ এমন কথা বলার সঙ্গে সঙ্গে মসজিদটি ভেঙে পড়ে। সেই থেকে এ মসজিদটি ভাঙা মসজিদ নামে পরিচিতি লাভ করে।
আশকর আলী চৌধুরীর বংশধর রাউজানের কলমপতি এলাকার বাসিন্দা আহম্মদ কবির চৌধুরী জানান, ১৭৬০ সালে আশকর চৌধুরী রাউজানের কলমপতি এলাকায় এসে বসতি স্থাপন করেন। তার ৫ ছেলের মধ্যে ইউছুফ আলাদা জমি নিয়ে বসতি স্থাপন করেন এবং ইউছুফ চৌধুরী মায়ের সঙ্গে বসবাসকালীন মসজিদটি নির্মাণ করেন। কবির চৌধুরী এলাকার লোকজনের প্রবাদ সম্পর্কে বলেন, মসজিদটির স্থান ফসলি জমি হিসেবে আরএস রেকর্ডে চিহ্নিত রয়েছে। নিচু জমিতে মাটি ভরাট করে নির্মাণ করায় মসজিদটি বিধ্বস্ত হয়ে পড়ে বলে ধারণা কবির চৌধুরী। তবে এলাকার মানুষের প্রবাদ, মায়ের দুধের ঋণ শোধ করার কথা বলায় ইউছুফ চৌধুরীর মসজিদটি বিধ্বস্ত হওয়ার ঘটনা সম্পর্কেও মিথ্যা বলে দাবি করেননি আহম্মদ কবির চৌধুরী ।
আশকর আলী চৌধুরীর বংশধর আহম্মদ কবির চৌধুরীর সঙ্গে কথা বলে আরও জানা গেছে, আশকর আলী চৌধুরীর পাঁচ ছেলের মধ্যে ইউছুফ চৌধুরী মারা যাওয়ার পর তার ২৮ জন বংশধর ছিলেন। বসন্ত রোগে আক্রান্ত হয়ে ইউছুফ চৌধুরীর সেই আটাশ বংশধরের মধ্যে ছাবি্বশ জনই মারা যান। শুধু তোহর আলী ও দিলজান বিবি বেঁচে থাকেন। তোহর আলীর বংশধরদের মধ্যে রয়েছেন ফটিকছড়ি কলেজের অধ্যক্ষ আলী আকবর চৌধুরী, তার ভ্রাতা আহম্মদ কবির চৌধুরী, আবুল ফজল চৌধুরী, ফজলুল কাদের চৌধুরী। আশকর আলী চৌধুরীর অপরাপর বংশধর রাউজানের কলমপতির নাসিম মোহাম্মদ চৌধুরী বাড়ির বাসিন্দা ও আবদুল জব্বার চৌধুরীর বাড়ির বাসিন্দার মধ্যে নুরুল আবছার চৌধুরী, রাউজান আরআরএসি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হারুন আল রশীদ চৌধুরী, অ্যাডভোকেট রাশেদ চৌধুরী এখনও জীবিত রয়েছেন।
২৫০ বছর আগে বিধ্বস্ত হওয়া এ মসজিদটি আজও কেউ পুনর্নির্মাণ করেননি। মসজিদটি পুনর্নির্মাণ করে ২৫০ বছরের ইতিহাসকে ধরে রাখার জন্য আশকর চৌধুরীর বংশধর আহম্মদ কবির চৌধুরী সরকারের সংশিল্গষ্ট কর্তৃপক্ষের সদয় দৃষ্টি কামনা করেছেন। |