 রাউজানে সব আশঙ্কা উড়িয়ে দিয়ে ১৪টি ইউনিয়নে গতকাল শনিবার শান্তিপূর্ণভাবে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল শনিবার র্যাব, আর্মড পুলিশ, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ ও আনসার বাহিনীর সদস্যদের কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে রাউজানে শান্তিপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলো। নির্বাচন চলাকালে কোথাও কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনার সংবাদ পাওয়া যায়নি। হলদিয়া ইউনিয়নের এয়াছিন শাহ্ জুবলী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোটকেন্দ্রে গিয়ে দেখা যায়, ৪নং ভোট কক্ষের সামনে মহিলা ভোটারদের দীর্ঘ লাইন। কেন্দ্রের প্রিসাইডিং অফিসার নজরুল ইসলাম জানান, ওই কেন্দ্রে মহিলা ভোট কক্ষের ৩৩০ ভোটার একসঙ্গে আসায় ভোটারদের দীর্ঘ লাইন হয়েছে। দুপুর ১টায় রাউজানের বিনাজুরী ইউনিয়নের বিনাজুরী নবীন উচ্চ বিদ্যালয় ভোটকেন্দ্রে দুর্ঘটনায় আহত শিক্ষক সঞ্জীব দে রিকশা-ভ্যানে করে বৃষ্টির মধ্যে ভোটকেন্দ্রে ভোট দিতে আসেন। দুপুর ২টা ২০ মিনিটের সময় ৭নং রাউজান ইউনিয়নের মধ্য রাউজান সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোটকেন্দ্রে গিয়ে দেখা যায়, কেন্দ্রে কোনো ভোটার নেই। ওই কেন্দ্রের প্রিসাইডিং অফিসার সুভাষ চৌধুরী জানান, কেন্দ্রের ১ হাজার ৪২১ ভোটের মধ্যে ১ হাজার ভোট সংগ্রহ হয়েছে। উপজেলার রাউজানের পশ্চিম গুজরা ইউনিয়ন ও চিকদাইর ইউনিয়নের চেয়ারম্যন পদে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় দুই চেয়ারম্যান সাহাব উদ্দিন আরিফ ও কাজী দিদারুল আলম নির্বাচিত হয়েছেন। চিকদাইর ইউনিয়ন ও পশ্চিম গুজরা ইউনিয়ন ছাড়া অবশিষ্ট ১২টি ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে ৬৫ প্রার্থী, সংরক্ষিত মহিলা আসনে ১০৫ ও সাধারণ সদস্য পদে ৪২৬ প্রার্থী নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন।---১৯ জুন : রাউজানে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন শান্তিপূর্ণভাবে শেষ হলেও ফলাফল ঘোষণার পর পরাজিত প্রার্থীর বিক্ষুদ্ধ কর্মী সমর্থকরা কয়েকটি ইউনিয়নে বিজয়ী প্রার্থীর লোকজনের বাড়ি ঘরে হামলার ঘটনা ঘটিয়েছে। ১৮জুন শনিবার নির্বাচন শেষ হওয়ার পর পরই এ হামলার ঘটনা ঘটে।
নির্বাচনে ১৪টি ইউনিয়নে ১৩টিতে আ.লীগ ও ১টি তে বি.এন.পি প্রার্থী জয়ী হয়েছে। এর মধ্যে ২টি ইউনিয়নে প্রতিদ্বন্দ্বি প্রার্থী মনোনয়ন প্রত্যাহার করায় বিনা প্রতিদন্দ্বিতায় চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়।
উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের কমাণ্ডার আবু জাফর চৌধুরী বলেছেন ভোট না দেওয়ার সন্দেহে তার বাড়িতে হামলা করা হয়েছে। তার একপুত্রকে মারধর করেছে।
এলাকার লোকজন জানান, ৭নং রাউজান ইউনিয়নের পরাজিত চেয়ারম্যান প্রার্থী শাহ আলমের বিরোধীতা করেছেন এমন অনেক বিরোধী প্রার্থীর কর্মী সমর্থকরা হামলার আশংকায় বাড়ী ঘর ছেড়েছেন।
হামলার ঘটনার ঘটেছে ডাবুয়া ইউনিয়নেও। এই ইউনিয়নের বিজয়ী প্রার্থী আবদুর রহমান চৌধুরীর পক্ষে তার আত্মীয় সাহাবুদ্দীন অভিযোগ করেছেন, রোববার সকালে পরাজিত প্রার্থী আলমগীরের উগ্র কর্মী সমর্থকরা তার পক্ষে থাকা পশ্চিম ডাবুয়ার জসিম উদ্দিন , বাহার উদ্দিন, গোলাফুর রহমান, বাইন্যাহাট এলাকার আবদুল মান্নান, আজিম উদ্দিনের উপর হামলা চালিয়ে আহত করেছে। হামলাকারীরা তাদেরকে বাড়ি ছেড়ে চলে যেতে নির্দেশ দিয়েছে। বিষয়টি তিনি প্রশাসনকে জানালেও কোনো ধরণের ব্যবস্থা নেয়া হয়নি বলে তার অভিযোগ।
থানার অফিসার ইনচার্জ উনু মং জানান, ফলাফল ঘোষণার পরবর্তী সময়ে কোনো কোনো স্থানে হালকা কিছু ঘটনা ঘটলেও প্রশাসনের দ্রুত পদক্ষেপে তা শেষ হয়ে গেছে।
এদিকে ঘোষিত ফলাফল হিসাবে ১৪টি ইউনিয়নে ৩৯৭১ ভোট পেয়ে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন হলদিয়া ইউনিয়নে মুক্তিযোদ্ধা শফিউল আলম। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বি মাহবুল আলম পেয়েছেন ৩০২৭ ভোট ।
ডাবুয়ায় আবদুর রহমান চৌধুরী বিজয়ী হয়েছেন ৪৮২৫ ভোট পেয়ে। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বি মোহাম্মদ আলমগীর পেয়েছেন ৪৪৮৭ ভোট ।
গহিরায় নুরুল আবছার ১৭০৯ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বি নাজিম উদ্দিন তালুকদার পেয়েছেন ১৬১৮ ভোট ।
নোয়াজিষপুর ইউনিয়নে ৩৩১৮ পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন সরোয়াদ্দী সিকদার। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বি মোহাম্মদ ইসলাম পেয়েছেন ১৩৪৭ ভোট ।
বিনাজুরীতে ২০১৮ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন সুকুমার বড়ুয়া। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বি রবিন্দ্র লাল চৌধুরী পেয়েছেন ১৩১৮ ভোট ।
রাউজান সদর ইউনিয়নে ফায়জুল ইসলাম চৌধুরী, টিপু বিজয়ী হয়েছেন ৪৫৯৪ ভোট পেয়ে। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বি শাহ আলম পেয়েছেন ৩০১২ ভোট।
কদলপুরে মোজাহেদুল ইসলাম চৌধুরী ৪৮৭০ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বি সাইফুল হক চৌধুরী পেয়েছেন ২১২২ ভোট।
পাহাড়তলীতে মোহাম্মদ ইব্রাহীম বিজয়ী ৪৪৪৪ ভোট পেয়ে। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বি আবদুল মান্নান পেয়েছেন ৩১০৯ ভোট ।
পূর্ব গুজরায় এম.আব্বাস উদ্দিন আহমেদ বিজয়ী হয়েছেন ২৭৭০ ভোট পেয়ে। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বি মাহমুদ হোসেন পেয়েছেন ২৫২৫ ভোট।
উরিকরচরে আনোয়ার চৌধুরী বিজয় হয়েছেন ভোট ৩৩০৮ পেয়ে। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বি আনোয়ার আজম পেয়েছেন ২৬৪৫ ভোট ।
নোয়াপাড়া আলহাজ্ব দিদারুল আলম বিজয়ী হয়েছেন ৭৫০৫ ভোট পেয়ে। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বি জানে আলম ভোট পেয়েছেন ৩৯২৭।
বাগোয়ানে ভূপেশ বড়ুয়া বিজয়ী হয়েছেন ৪৪৩৩ ভোট পেয়ে তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বি আবুল বশর পেয়েছেন ৩৯০৭ ভোট ।
এর আগে পশ্চিম গুজরা সাহাবুদ্দিন আরিফ ও চিকদাইর ইউনিয়নের কাজী দিদারুল আলম বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়।
|